আপনার ব্যবহৃত সিম নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ভাল করার কিছু উপায়

  • April 15, 2022
  • bongopediaofficial
  • 1 min read

(সিম নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ভাল করার কিছু উপায়)-আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে স্মার্ট ফোন রয়েছে। স্মার্টফোনে আমরা বেশিরভাগ মানুষই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা ব্রাউজার, ইউটিউব, গুগোল, হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জার ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি চালিয়ে থাকি। যখন আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে এগুলো চালাই তখন অনেক সময় আমাদের বাফারিং হয় বা নেটের সিগনাল পাওয়া যায় না। এরকম আমাদের সাথে অনেক বার হয়ে গেলে তখন আমাদের অনেক বিরক্ত লাগে।

কারণ একই রকম বিষয় কতবারই একটা মানুষ ধৈর্য ধরে সহ্য করতে পারে।এর বিভিন্ন কারণ হতে পারে। যেমন হতে পারেন আপনার ব্যবহার করা সিমটি ততটা ভালো নয়, আবার হতে পারে আপনার স্মার্টফোন আপনার সিমের নেটওয়ার্ককে ভালো করে ধরতে পারছে না।এখন আপনারা ভাবছেন এই ধরনের সমস্যা থেকে আমরা কিভাবে নিস্তার পাবে? চিন্তা করবেন না আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনার ব্যবহৃত সিম নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ভাল করার কিছু উপায় থেকে কিভাবে নিস্তার পাওয়া যায় সেগুলো নিয়ে কথা বলবো। আপনারা যদি সেগুলো মেনে চলেন তাহলে আপনার নিস্তার পেতে পারবেন। 

সিম নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ভাল করার কিছু উপায়

সিম নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ভাল করার কিছু উপায়
সিম নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ভাল করার কিছু উপায়

•চেক নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি:


আমরা যখন মোবাইল ব্যবহার করি নিশ্চয়ই সিম ব্যবহার করে থাকি। এই সিমের নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি কেমন, কেমন নেটওয়ার্ক আপনার ফোনে আসে এবং আপনার এলাকার নেটওয়ার্ক কেমন? এই সব প্রশ্নের উত্তর কি আপনারা দিতে পারবেন?


এজন্য আপনাকে প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে তারপর সেখানে অ্যাবাউট ফোনের একটি অপশন থাকবে সেটাতে ক্লিক করতে হবে।তারপর সেখানে গিয়ে দেখবেন নেটওয়ার্ক নামে একটি অপশন রয়েছে সেটাতে যাবেন যাওয়ার পর দেখবেন ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালু নিয়ে পয়েন্ট রয়েছে। তো এভাবে আপনি আপনার মোবাইলের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পারবেন।


এখানে হয়তো আপনারা বুঝেন নি যে ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালু মানে কি? এটা আমি আপনাদেরকে একটু সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেব। এই ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালুর মাধ্যমে আপনি আপনার নেটওয়ার্কে কোয়ালিটি জানতে পারবেন। এটা আপনি কিভাবে আমি এখন আপনাদের বলব।


এ জন্য আপনাকে প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে। সেটিংসে গিয়ে আপনাকে স্ট্যাটাস নামে একটা অপশন আছে সেখানে যেতে হবে তারপর দেখবেন ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালু যদি (-৫০ থেকে -৭৯) থাকে তাহলে মনে করবেন আপনার নেটওয়ার্ক ভালো আছে অনেক।

এই ক্ষেত্রে আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক দেখতে পাবেন সেটা ৪ থেকে ৫ পর্যন্ত।কিন্তু যদি ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালু যদি (-৮০ থেকে -৮৯) থাকে তাহলে মনে করবেন আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক মোটামুটি মানে ভাল বলা যায়।যদি ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালু যদি (-৯০ থেকে -৯৯ ) থাকে তাহলে মনে করবেন আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক এভরেজ।

যদি ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালু যদি (-১০০ থেকে -১০৯) থাকে তাহলে মনে করবেন আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক খারাপ। এ সময় আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক সেইবা ১/২ লাঠি আসবে।যদি ডি.বি.এম নেটওয়ার্ক ভ্যালু যদি (-১১০ থেকে -১২০) থাকে তাহলে মনে করবেন আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক খুবই খারাপ। তখন আপনি আপনার ফোনের নেটওয়ার্কেরসিগন্যাল দেখতে পাবেন একটি লাঠিও আসছে না।তো আপনি এভাবে বুঝতে পারবেন যে আপনার সিমের নেটওয়ার্কের কোয়ালিটি কেমন পাচ্ছেন আপনি।


এখন আপনি কিভাবে বুঝবেন যে কোন কোম্পানির সিম আপনাকে ভালো নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি দিতে পারবে বা কোন কোম্পানি দিতে পারবে? এটারও একটি পদ্ধতি রয়েছে।আমি নিজেই এটা জানার জন্য opensignal.com ওয়েবসাইটে গিয়েছিলাম।এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে এয়ারটেল আপনাকে সবচেয়ে বেশি এবং ভালো ভিডিও স্ট্রিমিং, ভিডিও বা ভয়েস কলিং, ডাউনলোডিং সুবিধা দেয়। তারা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পেজেও যাবে এই কথাটি বলেছে।অন্যান্য সিমে আপনি এত ভালো নেটওয়ার্ক পাবেন না যত ভালো নেটওয়ার্ক এয়ারটেল সিম আপনাকে দেয়।ডাউনলোডের সময় এয়ারটেল ১০.১ mbps স্পিড দিতে পারে।

•ভালো নেটওয়ার্ক অপারেটর সিলেক্ট:


একটা ভালো নেটওয়ার্কে বেছে নেওয়া অনেক কঠিন।আপনি বর্তমানে যে সিম কার্ডটি ব্যবহার করছেন সেই সিম এ নেটওয়ার্ক আপনার এলাকায় যদি ভালো হয় ততো ভালো কথা। আর যদি ভালো না হয় সেক্ষেত্রে আপনি অন্য সিম ব্যবহার করে সিমের নেটওয়ার্ক চেক করে দেখতে পারেন। হতে পারে ঐ সিমের নেটওয়ার্ক আপনার এলাকায় ভালো।


যেমন: আপনি যদি জিও সিম ব্যবহার করে থাকেন সেটি যদি আপনার এলাকায় ভালো নেটওয়ার্ক সার্ভিস না দিতে পারে তাহলে আপনি সেই একই জায়গায় জিও সিমের পরিবর্তে এয়ারটেল সিম ব্যবহার করে দেখতে পারেন। হতে পারে আপনার অবস্থান করা জায়গায় এয়ারটেল সিম আপনাকে ভালো সার্ভিস দিচ্ছে।আপনার ভালো সিমের নেটওয়ার্ক নির্ভর করে আপনার জায়গার উপর। আপনি কোন জায়গায় বসবাস করেন সে জায়গার উপর।


তাই আপনার বসবাসকৃত জায়গার।জন্য একটি ভালো সিম বেছে নেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু আপনি যদি এয়ারটেলের সিম ব্যবহার করেন তাহলে নিশ্চয়ই ভালো নেটওয়ার্ক পাবেন। কারণ এর নেটওয়ার্ক স্পিড অনেক ভালো।তো আপনার উচিত এয়ারটেল সিম ব্যবহার করা।

•ওয়াইফাই কলিং ব্যবহার:


এই ফিচারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন স্মার্টফোন ব্যবহার করার জন্য। এই ফিচারটি জিও এবং এয়ারটেল অপারেটর সিম কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র বের করেছে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে। আপনার ফোন যদি আপনাকে ওয়াইফাই কলিং সাপোর্ট দিতে পারে তাহলে আপনি ওয়াইফাই কলিং ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেন।


তো আপনার ফোন ওয়াইফাই কলিং সাপোর্ট করে কিনা এটা আপনি কিভাবে বুঝবেন? এটা আপনি এয়ারটেল সিমের ওয়েবসাইট পেজে গিয়ে চেক করতে পারে যে আপনি আপনার ফোনটি ওয়াইফাই করেন সাপোর্ট করে কিনা।যদি সাপোর্ট করে তাহলে আপনি ওয়াইফাই কলিং সিস্টেম কিভাবে সেটআপ করবেন আপনার ফোনে? সেটারও পদ্ধতি আমরা বলে দিচ্ছি।


এজন্য আপনাকে সেটিংসে যেতে হবে সেটিংসে গিয়ে ওয়াইফাই কলিং লিখে সার্চ করতে হবে। যদি কোন কিছু আসে ওই নামে তাহলে আপনি সেটাতে ক্লিক করবে এবং সেটা ডিজেবল করা থাকলে আপনি এনেবেল করে দিবেন। সম্ভবত সেটা ডিজেবল থাকে।এরপর আপনার ফোন ওয়াইফাইয়ের সাথে কানেক্ট থাকতে হবে। এর ফলে আপনি যখন ফোনে কলে কারো সাথে কথা বলবেন যদি আপনার নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ভালো না আসে তাহলে ওয়াইফাই তখন নেটওয়ার্ক সিগন্যাল হিসেবে কাজ করবে এবং আপনি পরিষ্কার ওই ওপর ব্যাক্তির কথা শুনতে পারবেন।

•নিজের এলাকার নেটওয়ার্ক এবং নেটওয়ার্ক টাওয়ার চেক:


আপনি আপনার এলাকার নেটওয়ার্ক টাওয়ার কোথায় কোথায় আছে সেটা জানতে পারবেন। এজন্য আপনাকে আপনি যে অপারেটর অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন তাদের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখান থেকে আপনি জানতে পারবেন। আমি যেহেতু এয়ারটেলের সিম ব্যবহার করে থাকি তাই আমি এয়ারটেলে ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করেছিলাম।

আপনারাও আপনাদের ব্যবহার করা সিমের ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করবেন। এজন্য আপনাকে পিন কোড দিতে হবে বা আপনার এলাকার তথ্য দিতে হবে তারপর আপনি দেখতে পারবেন যে আপনার আশেপাশে কোন কোন এলাকা কোথায় কোথায় আপনার ব্যবহার করা সিমের টাওয়ার লাগানো আছে। তাদের শক্তিমত্তা কেমন সেটা আপনারা জানতে পারবেন, সিগন্যাল কেমন সেটাও জানতে পারবেন। এছাড়া আপনি এয়ারটেল থ্যাংকস অ্যাপে গিয়ে এগুলো জানতে পারবেন।এখন থেকে আপনি চাইলে রিচার্জও করতে পারবেন।

আপনি যদি এই চারটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন তাহলে আপনি জানতে পারবেন আপনার এলাকা নেটওয়ার্ক কেমন, কোথায় কোথায় নেটওয়ার্ক টাওয়ার রয়েছে, আপনার ফোনে ওয়াইফাই কলিং সিস্টেম আছে কিনা, আপনি যে সিম অপারেটরের সিম কার্ড ব্যবহার করছেন সেটা ভাল কিনা এসব। আশা করছি আপনারা এই নেটওয়ার্ক সিগন্যাল সমস্যা থেকে দূর হতে পারবেন। আপনারা দয়া করে এই চারটি পদ্ধতি অবলম্বন করবেন এবং এটা আমরা আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি আমরা। তো আজকে এই পর্যন্তই ছিল। আল্লাহ হাফেজ সবাইকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *