কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি?কিভাবে কাজ করে?

  • April 15, 2022
  • bongopediaofficial
  • 1 min read

তো আজকে আমরা একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং নিয়ে কথা বলব। এটা সম্পর্কে আমাদের সবার জানা দরকার। তো আজকের আর্টিকেলের বিষয়টি হচ্ছে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং। এই আর্টিকেলে আমরা কথা বলবো যে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কিভাবে কাজ করে এবং এই নেটওয়ার্কিংয়ের কি কি ভাগ রয়েছে সেগুলো নিয়ে। 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি?কিভাবে কাজ করে?
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি?কিভাবে কাজ করে?

•What is Computer Networking: 


নিচের বিষয়গুলো একসাথে মিলে তৈরি হয় এই কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং।
কমিউনিকেশন: যখন যে কোনো দুটি ডিভাইসের মাধ্যেমে একজন আরেকজনের সাথে কথা বলা, কোনো তথ্য শেয়ার করাসহ আরো অন্যান্য কাজ করা যায় তাকে আমরা কমিউনিকেশন বলে থাকি। ঠিক একই ভাবে আমরা যখন একটি কম্পিউটারের মাধ্যমে আরেকটি কম্পিউটারে কোনো তথ্য বা ফাইল শেয়ার করে থাকি তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বলে। 


শেয়ারিং সফটওয়্যার: আমরা কি কি ধরনের সফটওয়্যার শেয়ার করতে পারবো? আমরা এখানে তথ্য বা ফাইল শেয়ার করতে পারবো। তো যখন আপনি কাউকে আপনার যে কোনো ফাইল অন্যদের কাছে শেয়ার করবেন বা তাকে দিবেন কম্পিউটার মাধ্যমে সেটি তার সিস্টেমে সেভ হয়ে যাবে। 


সিকিউরিটি: আপনি যখন কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে কমিউনিকেশন করেন তখন সেটি একটি সিস্টেমের মাধ্যমে করে থাকেন বা হয়ে থাকে। যখন এসব ফাইল একটি সিস্টেমের মধ্যে হয়ে থাকে এই সিস্টেম চেষ্টা করে আপনার ফাইল বা তথ্যটি যেনো নিরাপদে ট্রান্সফার হয় এবং সেটার যেনো কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

 
শেয়ারিং হার্ডওয়্যার: যখন কোন ডিভাইসের মধ্যে হার্ডওয়ারের শেয়ারিং হয়ে থাকে তখন তাকে শেয়ারিং হার্ডওয়ার বলে।


শেয়ারিং ডাটা: যখন যেকোনো দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডাটা শেয়ার করা হয় তখন তাকে শেয়ারিং ডাটা বলে।


ইনফরমেশন প্রিসেরভেশন: যখন আপনি আপনার ডিভাইসের মাধ্যম অন্যের ডিভাইস কোনো তথ্য শেয়ার করেন তখন সেটি সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। আর এই তথ্য সংরক্ষণকেই বলে ইনফরমেশন প্রিসেরভেশন। 

• How It Works:


আমাদের এই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে এই টপিকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আজকের আর্টিকেলের মধ্যে। কারণ আপনারা জানেন যে এথিক্যাল হ্যাকিং অর্থাৎ  লিগ্যাল হ্যাকিংয়ে এই বিষয়টির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। 

আইএসপি: এটি হচ্ছে আসলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার। যেমন: গ্রামীণ, রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক, জিও ইত্যাদি এইসব কোম্পানিগুলো আমাদের নেটওয়ার্ক সার্ভিস দিয়ে থাকে। আর যেসব কোম্পানি আমাদের এই নেটওয়ার্ক সার্ভিস দিয়ে থাকে তাদের আমরা বলে থাকি আইএসপি। এটি কোনো আইনের পদবি নয়। আপনারা ঘরে বসে এখন কোনো না কোনো আইএসপি এর ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। মনে করেন আপনি গ্রামীণের ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করছেন। এই ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অর্থাৎ আইএসপি ওই ব্রডব্যান্ডে ইন্টারনেট প্রোভাইড করে থাকে। আর ওই ব্রডব্যান্ড আমাদেরকে নেটওয়ার্ক সার্ভিস দিয়ে থাকে। আপনারা হয়তো অনেকে ব্রডব্যান্ড মানে বুঝেননি। আসলে ব্রডব্যান্ড হচ্ছে আপনার রাউটার। আপনারা এইভাবেই রাউটারের মাধ্যমে নেট পেয়ে থাকেন। 


আইপি: এটি এক ধরনের অ্যাড্রেস। এই পূর্ণ নাম হচ্ছে ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস। আপনি কি জানেন যে এই অ্যাড্রেস কখন পাওয়া যায়? এই অ্যাড্রেস তখনই পাওয়া যায় যখন ওই ইন্টারনেটের মধ্যে নেটওয়ার্ক প্রোভাইড হয়। যখনই ওই সিস্টেমে নেটওয়ার্ক  আসে তখনই আইপি আসে যা তার এলাকার নেটওয়ার্ক বা লোকাল নেটওয়ার্ক। ঠিক তখনই সেখানের আইপি অ্যাড্রেস তৈরি হয়। তো এর মানে হচ্ছে ব্রডব্যান্ডে যখন নেটওয়ার্ক আসে তখন যে আইডি পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে তার আইপি অ্যাড্রেস। আমরা যে আইপি অ্যাড্রেস দেখতে পাই সেটি পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস। ওই রাউটারের বা ব্রডব্যান্ডে আলাদা করে প্রাইভেট আইডিও থাকে। 


মনে করেন আপনার কাছে কয়েকটি ওয়্যার ডিভাইস আছে আবার ওয়্যারলেস ডিভাইসও আছে। ওই ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে নেট প্রোভাইড হচ্ছে বলে আপনি এগুলো ব্যবহার করতে পারছেন। নেটওয়ার্ক প্রোভাইড করার সাথে সাথে এটি একটি প্রাইভেট অনুমোদিত আইপি আমাদের প্রোভাইড করবে। এই প্রাইভেট অনুমোদিত আইডি যাবে একটি নির্দিষ্ট পথে যা হচ্ছে 192.168.0.1। 


প্রতিটি ডিভাইসের আলাদা আলাদা প্রাইভেট আইপি আছে। আর প্রতিটি ডিভাইসের প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস 192.168. পর্যন্ত ঠিক থাকে পরে গিয়ে আলাদা আলাদা সংখ্যা থাকে। যেমন মনে করেন আপনি একটি সিস্টেমের সাহায্যে আপনার একটি কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার করছেন সেখানে কম্পিউটারের প্রাইভেট আইপি হবে 192.168.100। আবার মোবাইলের আইপি অ্যাড্রেস হবে 192.168.10। 


এরকম যে প্রাইভেট আইপি গুলো থাকে আমি প্রতিদিনই থাকি আপনি যে নেটওয়ার্কের সাহায্যে ব্যবহার করছেন সে নেটওয়ার্কের কাছে। কিন্তু একটি মজার বিষয় হচ্ছে তাদের এই ধরনের আইপির ইন্টারনেটের বিশ্বে কোন অস্তিত্বই নেই। কেউই জানে না কার আইপি কার কাছে বা কার আইপি কোনটা। ইন্টারনেটে যেসব আইপি যাচ্ছে সেগুলো পাবলিক আইপি যাচ্ছে। কারণ ওই লোকাল এলাকায় পাবলিক আইপির গুরত্ব আছে কিন্তু ওই এলাকার বাইরে প্রাইভেট আইপি যায়। 


মনে করেন আপনি আপনার কম্পিউটারে ব্রাউজারে গিয়ে Google.com সার্চ করলেন। তখন একটি সার্চ প্যাকেট জেনারেট হয়ে রাউটারে আসবে তারপর সেই রাউটার থেকে প্যাকেটটি ইন্টারনেটে যাবে। যে সিস্টেম থেকে কোনো প্যাকেট জেনারেট হয়ে যেতে থাকে তাকে সোর্স আইপি বলে। তো যখন রাউটার ইন্টারনেটে ওই প্যাকটেটি পাঠাবে তখন যে সোর্স আইপিটি তৈরি হবে সেটা হবে রাউটারের আইপি। আবার যখন গুগল ওই প্যাকেটটিকে রিপ্লাই দিবে তখন যে আইপি উৎপন্ন হবে সেটিও হবে রাউটারের আইপি। 


এই রাউটার কিছুক্ষণ পরপর আইপি রিকোয়েস্ট জেনারেট করে। আপনারা কি জানেন এই আইপি রিকোয়েস্ট জেনারেট করা মানে কি? এর মানে হচ্ছে অ্যাড্রেস রেসলিওশন প্রটোকল। এর কাজ হচ্ছে যে এই সিস্টেমের সাথে কি কি বা কয়টি ডিভাইস কানেক্ট আছে এবং এর সাথে সাথে এটি আরো জানায় যে ওই সিস্টেমগুলো বা ওই ডিভাইসগুলো আইপি অ্যাড্রেস কি। এরপর রাউটারের রিকোয়েস্ট সবার কাছে যাবে মানে রাউটারের সবাইকে জিজ্ঞেস করবে এটা যে কে 192.168.100। তারপরে যে ডিভাইসের আইপি এটা সেই ডিভাইসকে ওই রিপ্লাই শেয়ার করা হবে। তো এভাবে আমাদের রাউটার ইন্টারনেট প্রসেস কাজ করে থাকে।

•Types of Network in Networking:


আপনি কি জানেন নেটওয়ার্কের মধ্যে তিনটি ধরন রয়েছে। সেই তিনটি ধরন হচ্ছে:

LAN: এর মানে হচ্ছে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক। এর পুরো মানে হচ্ছে যে আপনি যে রাউটার ব্যবহার করছেন সে রাউটারের সাথে যে কয়টি ডিভাইস কানেক্টেড রয়েছে সেগুলো লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের মধ্যে পরে। আপনি যদি আরেকটু ভালো করে বুঝতে চান তাহলে আমি বলতে পারি আপনাদের যে লোকাল এরিয়া মানে ছোট এরিয়ার মধ্যে আমরা যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকি বা ওই নেটওয়ার্কের সাহায্যে যা কিছু করে থাকে তাকেই এই লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়।


MAN: এর মানে হচ্ছে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক। একে পুরোপুরি বোঝাতে গেলে আমরা বলতে পারি যে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এর চেয়ে আরো বড় মানে মনে করেন আপনাদের আশেপাশের কাছাকাছি যে কয়েকটি ঘর রয়েছে বা বাড়ি রয়েছে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই আপনাদের ওই আশে পাশের বাড়ি বা ঘরগুলোতেও নেটওয়ার্ক প্রোভাইড করা সম্ভব হবে। তো এর মানে যাচ্ছে যে এটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডার থেকেও আরো বড় একটি সার্ভিস প্রোভাইডার নেটওয়ার্ক আর এজন্যই একে বলা হয় মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক।


WAN: এর মানে হচ্ছে ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক। এটি হচ্ছে আমাদের ব্যবহার করার নেট বা নেটওয়ার্ক। মনে করেন পুরো বিশ্বে যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয় সেটা এই ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। আবার আমরা যে ব্রাউজারে সার্চ করি (www.) এটিও ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক।

তো কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে আশা করি আপনারা অনেক কিছু জেনে গেছেন এবং আমরা যা বুঝাতে চেয়েছি আপনাদের সেটাও বুঝতে পেরেছেন। আসলে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের গুরুত্ব আমাদের জীবনে অনেক। তো এই নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আমাদের সবারই জানা দরকার এটি কিভাবে কাজ করে, এর কি কি ভাগ রয়েছে এবং এটি আসলে কি এগুলো এইজন্যই আর্টিকেলটা আজকে আমরা তৈরি করেছি। তো আজকে এই পর্যন্তই থাক।                         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *